বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্স-স্পেন মহারণ আজ

ডালাস, ১৪ জুলাই: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মঙ্গলবার রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলই মাঠে নামছে ভিন্ন লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে।
ফ্রান্স টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামছে। অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো আবারও ফাইনালে জায়গা করে নিতে মরিয়া স্পেন।
গ্রুপ পর্বে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়েকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠে ফ্রান্স। এরপর সুইডেন, প্যারাগুয়ে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে দলটি। দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ইতোমধ্যে ৮ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও ডেজিরে দুয়ের মতো তরুণ খেলোয়াড়রা আক্রমণে গতি ও বৈচিত্র্য যোগ করেছেন।
অন্যদিকে, স্পেন গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালসহ প্রতিপক্ষদের হারিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নকআউটে ওঠে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে তারা। এই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টে গোল হজম করে স্পেন, এর আগে টানা ছয় ম্যাচে তারা কোনো গোল খায়নি। বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর গোলেই জয় নিশ্চিত হয়।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে স্পেন এগিয়ে। ৩৮ ম্যাচে স্পেন জিতেছে ১৮টিতে, ফ্রান্সের জয় ১৩টিতে এবং ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় আসরে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়েছে ফ্রান্স, যদিও বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র সাক্ষাতে ২০০৬ সালে জয় পেয়েছিল ফরাসিরা।
দলের খবর অনুযায়ী, ফ্রান্স শিবিরে বড় কোনো দুশ্চিন্তা নেই। সামান্য চোট কাটিয়ে এমবাপ্পে ম্যাচে খেলতে প্রস্তুত। মাঝমাঠে অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও মানু কোনো ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেন শিবিরে মাঝমাঠের কম্বিনেশন নিয়ে কিছুটা ভাবনায় কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, যেখানে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, পেদ্রি ও দানি ওলমোর মধ্যে জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতা রয়েছে। আক্রমণে লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওয়ারজাবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি হতে পারে কৌশলগত লড়াইয়ের এক বড় উদাহরণ। স্পেন বলের দখল ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইবে, আর ফ্রান্স দ্রুত পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করবে। নির্ধারিত সময়ে ফলাফল নির্ধারণ না হলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।





