বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৪৮৮ কোটি টাকার ক্ষতি

ঢাকা,১৮ জুলাই: টানা ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এ তিন খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৮৮ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ ৪৩টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি জেলায় ক্ষতির মাত্রা বেশি। বন্যায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। গত রোববার প্রায় ১ লাখ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে থাকলেও বর্তমানে পানি কিছুটা নেমে এসে প্রায় ৮২ হাজার হেক্টর জমি এখনো প্লাবিত রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে পুকুর, ঘের ও খামারের মাছ ভেসে যাওয়ায় এ খাতে প্রায় ৪০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার মাছের খামার ও পুকুর এবং ৩ হাজার ৮৮৯টি মাছের ঘের। এছাড়া ৪৬টি মাছ ধরার নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাঁচজন জেলের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮১ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮৮ কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান। বর্তমানে প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান পানির নিচে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২০ হাজার হেক্টরের বেশি সবজির জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতের আর্থিক ক্ষতির হিসাব এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
বন্যার কারণে খাদ্যপণ্য, মাছ ও মুরগির দামে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, আউশ ধানের প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন প্রায় ৩ লাখ টন কমতে পারে। আমনের বীজতলা পুনরায় প্রস্তুত করা সম্ভব হলেও বাজারে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির বর্তমান হিসাব প্রাথমিক এবং আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে।





