বিশ্বকাপ ফাইনালে সুপার বোল ধাঁচে হাফটাইম শো, লক্ষ্য ১০০ মিলিয়ন ডলার তহবিল

নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি, ১৬ জুলাই ২০২৬: ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে সুপার বোলের আদলে জমকালো হাফটাইম শো আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই আয়োজনের কারণে ম্যাচের বিরতির সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়িয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট করা হতে পারে।
ফিফা জানিয়েছে, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই হাফটাইম শো কেবল বিনোদনমূলক নয়, বরং এটি বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবলের সুযোগ সম্প্রসারণে ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগটি ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এর অংশ, যা ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য বিশ্বব্যাপী মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং সচেতনতা তৈরি করা। আয়োজকরা বিশ্বকাপের বিপুল দর্শকসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে সরকার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন সংগ্রহ করতে চান।
আয়োজকদের মতে, বিশ্বকাপ ফাইনাল বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক দেখা ক্রীড়া ইভেন্ট হওয়ায় এই মঞ্চকে সামাজিক প্রভাব সৃষ্টির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংগৃহীত অর্থ ২০০টিরও বেশি দেশে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
হাফটাইম শোকে কেন্দ্র করে থাকছে বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণ। এতে পরিবেশনা করবেন ম্যাডোনা, শাকিরা, বার্না বয়, বিটিএস এবং জাস্টিন বিবার। পাশাপাশি ‘পিএস ২২ কোরাস’ ও ‘কোল্ডপ্লে’-এর বিশেষ পরিবেশনাও থাকবে।
এই আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন কোল্ডপ্লের প্রধান শিল্পী ক্রিস মার্টিন। তার নেতৃত্বে এই শোকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করে একই সঙ্গে তহবিল সংগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়।
সংগৃহীত তহবিলের একটি অংশ ‘ফুটবল ফর স্কুলস’ কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে, যা ফিফা ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত। এই কর্মসূচির মাধ্যমে খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষা ও জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা হয়।
ফিফার এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বকাপকে কেবল ক্রীড়া আয়োজনের বাইরে এনে বৈশ্বিক সামাজিক উন্নয়নের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।





