এক শিক্ষকেই চলছে জামালপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী কমছে

জামালপুর, ১৮ জুলাই: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাঁচটি পদের মধ্যে চারটি শূন্য থাকায় বর্তমানে একজন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষার মানে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে প্রধান শিক্ষক আবদুল মমিন একাই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রধান শিক্ষক হওয়ায় প্রশাসনিক কাজও সামলাতে হয়, ফলে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থী থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন উপস্থিত থাকে। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অনিয়মিত হয়ে পড়ছে এবং নতুন ভর্তি কমে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একতলা ভবন ও টিনশেড কক্ষে শ্রেণিকক্ষ থাকলেও শিক্ষক সংকটে সেগুলো পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। একটি কক্ষে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করছিলেন প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে সময় কাটাচ্ছিল।
প্রধান শিক্ষক আবদুল মমিন জানান, ২০১৮ সালে যোগদানের সময় বিদ্যালয়ে আরও তিনজন সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পর্যায়ক্রমে তাঁরা অবসরে গেলে পদগুলো শূন্য হয়ে পড়ে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক না থাকায় অভিভাবকেরা সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। ছয়-সাত বছর আগে যেখানে প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী ছিল, বর্তমানে তা কমে ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৯ জুলাই সাময়িকভাবে পাশের একটি বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে মৌখিকভাবে পাঠদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো স্থায়ীভাবে কোনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে চরাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা অনুন্নত। কাঁচা রাস্তা ও যাতায়াতের সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষক এখানে যোগ দিতে অনাগ্রহী।





