রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল আনসারীকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি

মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে দেশে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত আটই মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি আদেশ জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসান মৃধা স্বাক্ষরিত ঐ প্রজ্ঞাপনে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় এসে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তার মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। মেক্সিকো থেকে তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার সরকারি আদেশের সেই কপিটি শেয়ার করে তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ।’
তার এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তন এবং সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই এই বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রদূত এবং তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগের ভ্রমণ ব্যয়সহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা প্রাপ্য হবেন।
বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে রাষ্ট্রদূতদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেক্সিকোর মতো লাতিন আমেরিকার একটি সম্ভাবনাময় দেশে মুশফিকুল ফজল আনসারীর দায়িত্ব পালন এবং সেখান থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানামুখী গুঞ্জন চলছে। তবে সরকারিভাবে একে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। সদর দপ্তরে ফিরে আসার পর তাকে নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হবে নাকি অন্য কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
জানা গেছে, মুশফিকুল ফজল আনসারী ইতোমধ্যে মেক্সিকো ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তার এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের কূটনৈতিক রেখায় বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী কিনা, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।
এদিকে, কূটনৈতিক মিশনগুলোতে রদবদলের অংশ হিসেবে আরও চারজন রাষ্ট্রদূত ও একজন হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মেক্সিকোর পাশাপাশি পর্তুগাল, পোল্যান্ড এবং মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া তিনজন রাষ্ট্রদূতকেও তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন এম. মাহফুজুল হক, মোগাম্মদ ময়নুল ইসলাম এবং নাজমুল ইসলাম। এই তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তাদের চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইসাথে লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদেশের মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ এই মিশনগুলোতে দায়িত্ব পালনরত শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের একযোগে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এ ধরনের গণ-বদলি বা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটে থাকে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া তিনজন রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সরকার সম্ভবত পেশাদার কূটনীতিকদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে। এম. মাহফুজুল হক, মোহাম্মদ ময়নুল ইসলাম এবং নাজমুল ইসলাম দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও তাদের চুক্তি শেষ হওয়া বা প্রত্যাহারের বিষয়টি নতুন নীতিমালার অংশ হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্তটি বেশ চমকপ্রদ। লন্ডনের মিশনটি বাংলাদেশের জন্য ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার কূটনৈতিক কাঠামোতে নতুন গতিশীলতা আনতে চাইছে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্রিয় ও পেশাদারিত্বের ছাপ রাখতে চায় কর্তৃপক্ষ। মেক্সিকো, পর্তুগাল, পোল্যান্ড ও মালদ্বীপের মতো দেশগুলোতে নতুন করে কাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।






