বটিয়াঘাটায় প্রবাসীর ক্রয়কৃত জমিতে ঘর নির্মাণে বাধার অভিযোগ

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : ফাহিম ইসলাম
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের কল্যাণশ্রী গ্রামে ক্রয়কৃত জমিতে ঘর নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমাধানের চেষ্টা হলেও বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী মো. কারিমুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪ নম্বর সুরখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কল্যাণশ্রী গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ও প্রবাসী মো. কারিমুল ইসলাম একই গ্রামের মৃত তালেব আলী গোলদারের ছোট ছেলে মিজানুর রহমানের কাছ থেকে কল্যাণশ্রী মৌজার জে.এল. নং-৪০ এলাকার ৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমির নামজারি সম্পন্ন করে নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন বলে তিনি দাবি করেন।
কারিমুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি তিনি ওই জমিতে বসতঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে একই গ্রামের মৃত তালেব গোলদারের বড় ছেলে আশরাফ আলী গোলদার জমিটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে নির্মাণকাজে আপত্তি তোলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমির সীমানা নির্ধারণ ও অংশ বণ্টনের বিষয়েও সমঝোতার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, স্থানীয়ভাবে সীমানা নির্ধারণের পরও আশরাফ আলী গোলদার বিভিন্ন সময়ে নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করছেন। ফলে কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টির স্থায়ী সমাধান এবং নিজের জমিতে ঘর নির্মাণের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে আশরাফ আলী গোলদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। আমার সৎ মায়ের এক ছেলে ও আমার চার বোন তাদের অংশের জমি বিক্রি করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আমি আদালতে প্রয়োজনীয় অর্থ আমানত করেছি। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে উভয় পক্ষই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে মত দিয়েছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল।





