দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ২২ ক্যারেট ছাড়াল ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের (পাকা সোনা) সংকটের কারণে এই দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন মূল্য তালিকায় আজ শনিবারও (১১ জুলাই) দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা চলছে।
নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী, আজ ১১ জুলাই থেকে হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের নতুন দাম
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান বাজার দর নিচে দেওয়া হলো:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫০ insert ২৩২ টাকা।
আগের দফার মূল্য হ্রাস ও চলতি বছরের পরিসংখ্যান
এর আগে, গত ৯ জুলাই সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম একদফা কমানো হয়েছিল। সেই সময় প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা করা হয়েছিল, যা ওই দিন দুপুর সোয়া বারোটা থেকে কার্যকর হয়। তবে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই দাম আবার এক লাফে বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়ল।
উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতার কারণে চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৮৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। এর মধ্যে ৪৪ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৪ দফায় দাম কমানো হয়েছে এবং ১ বার ভ্যাটের হার সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম ওঠানামা করেছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।





