টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে

জোবায়ের হোসেন,চট্টগ্রাম :
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড়ধস, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও নদীর পানি বৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
অব্যাহত বৃষ্টিতে থানচির সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে উপজেলা সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের নৌযোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নাফাখুম জলপ্রপাতে ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইড আটকা পড়েছেন। ঝুঁকি বিবেচনায় ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জেলা সদরের কালাঘাটা, বালাঘাটা, বনরূপা পাড়া ও সিদ্দিক নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের গ্রীনপিক রিসোর্টসংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ায় সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচিতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে হাসপাতাল, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে পাহাড়ধস ও পাথর পড়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়ক সচল রাখতে কাজ করছে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে নাইক্ষ্যংছড়িতে। প্রবল স্রোতের পানিতে ভেসে আলিয়া সোলতানা নামে পাঁচ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে লামা ও আলীকদমে পাহাড়ি ঢল ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আলীকদমের প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে একটি বসতবাড়ির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।





