খুবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি

খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
রেজাউল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বুধবার বিকেলে অভিযোগটি তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের ৭ সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের সভাপতি তাসলিমা খাতুন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো বিভিন্ন বার্তার প্রমাণসহ যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, শুরুতে ওই শিক্ষক তার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলে ভুক্তভোগী জানান, তিনি ফেসবুকে শিক্ষককে বন্ধু হওয়ার অনুরোধ পাঠানোর পরদিনই সেটি গ্রহণ করা হয় এবং এরপর থেকেই নিয়মিত বার্তা পাঠানো শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে বার্তাগুলোর ধরন আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। শুরুতে প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পেলেও অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে তিনি সামনে এসেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। এরপর তিনি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি।
যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি তাসলিমা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের জন্য জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হারুনর রশিদ খাঁন জানান, ডিনদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে মো. ইয়াসিন-কে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।





