কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে সংকটে প্লাস্টিক শিল্প, বন্ধ ৩০০ কারখানা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের অনিশ্চিত সরবরাহের কারণে দেশের প্লাস্টিক শিল্প বড় ধরনের চাপে পড়েছে। কাঁচামালের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাবে অনেক কারখানায় উৎপাদন ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং প্রায় ৩০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
সোমবার রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) কার্যালয়ে প্লাস্টিক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও জাতীয় বাজেট নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান সংগঠনটির সভাপতি শামীম আহমেদ। এ সময় বিপিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
শামীম আহমেদ বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি এবং প্লাস্টিক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল—পিভিসি রেজিন, পলিপ্রোপাইলিন, পলিইথিলিন ও পিইটি রেজিনের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যের দাম ৩ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হলেও তীব্র বাজার প্রতিযোগিতার কারণে সব ক্ষেত্রে সেই ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ইনজেকশন মোল্ডিং, ব্লো মোল্ডিং এবং এক্সট্রুশনভিত্তিক কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন আধা ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা এবং শিল্পাঞ্চলে এক থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক কারখানায় উৎপাদন ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
বিপিজিএমইএ সভাপতি জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জেনারেটর না থাকায় তারা পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে ব্যাংক ঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। উৎপাদনে বিলম্ব হওয়ায় সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হচ্ছে। এসব কারণে ইতোমধ্যে অন্তত ৩০০টি প্লাস্টিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের জন্য কয়েকটি কর ও শুল্ক সুবিধা বহাল রাখাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, পিভিসি রেজিন, পিইটি রেজিন এবং ফিল্ম গ্রেড পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক অপরিবর্তিত রাখায় কাঁচামালের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকবে।
এ ছাড়া ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ বহাল রাখা, প্রস্তুত প্লাস্টিক পণ্যে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক অব্যাহত রাখা, কাঁচামাল আমদানিতে ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়নের উদ্যোগ, কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রক্রিয়া সহজীকরণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য (রিসাইক্লিং) পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা এবং রিসাইক্লিংয়ের জন্য বর্জ্য সরবরাহে উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি।
একই সঙ্গে শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, কাঁচামাল আমদানিতে নীতিগত সহায়তা এবং সহজ শর্তে ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বিপিজিএমইএর সভাপতি।





