ইরানের হামলায় নিহত হলে কী করতে হবে মার্কিন বাহিনীকে, জানালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে ইরানের ‘এক নম্বর টার্গেট’। দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের পক্ষ থেকে তাকে গুপ্তহত্যা করার তীব্র হুমকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনোভাবে তার ওপর হামলা সফল হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে তিনি নিজের সামরিক উপদেষ্টাদের ইতিমধ্যেই অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
গত শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া একটি বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি, কোনো কারণে যদি আমার কোনো ক্ষতি হয় বা আমি মারা যাই, তাহলে ইরানের ওপর এমন তীব্র গতিতে বোমাবর্ষণ করা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’
এর আগেও একাধিকবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি তাকে হত্যার কোনো চেষ্টায় সফল হয়, তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানকে চরম সামরিক জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (ম্যাক্সিমাম প্রেসার) নীতির এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময়ও তিনি বলেছিলেন, তাকে হত্যা করা হলে ইরানকে মানচিত্র থেকে ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। সেই সময় ট্রাম্পের হুংকার ছিল, ‘আমি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি, তারা যদি এমন ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তাদের দেশের অস্তিত্বের কোনো চিহ্নই আর বিশ্বে অবশিষ্ট থাকবে না।’
হত্যার তালিকায় এক নম্বরে
সম্প্রতি তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরানের তৈরি করা হত্যার তালিকায় তার নাম সবার ওপরে রয়েছে। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা ইরানের নতুন কোনো হত্যা চক্রান্তের গোপন তথ্য মার্কিন প্রশাসনকে দিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, ইসরাইল নতুন কিছুই খুঁজে পায়নি। তবে আমি অনেক দিন ধরেই ইরানের হিটলিস্টের এক নম্বরে আছি। এটাই জীবন, মেনে নিতে হবে। তবে আশা করি, আপনারা আমাকে মিস করবেন।’
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সরাসরি সংঘাতের পর এই উত্তেজনা আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের দাবি ইরানের
এদিকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ট্রাম্পকে হত্যার একটি গোপন ছক বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ইরানের এক সরকারি অপারেটিভের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়। ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দাখিল করা সেই অভিযোগে বলা হয়েছিল, ওই ব্যক্তি ট্রাম্পকে হত্যার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার দায়িত্ব পাওয়ার কথা তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে ইরানের তৎকালীন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের এই অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি একে ইরানকে বিশ্ব দরবারে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং তেহরানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ইসরাইলের একটি সুদূরপ্রসারী ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।





