বিশ্বকাপ ফাইনালে ‘লা মাসিয়া ডার্বি’, স্পেন-আর্জেন্টিনায় ৮–১ ব্যবধান

নিউ জার্সি, রোববার: স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘লা মাসিয়া’—বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ফুটবল একাডেমি। ১৭০২ সালে নির্মিত কাতালান ফার্মহাউস ‘লা মাসিয়া দে কান প্লানেস’ থেকে শুরু হওয়া এই একাডেমি এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল প্রতিভা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের আগে পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলের স্কোয়াডে লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের সংখ্যায় বড় পার্থক্য রয়েছে। স্পেন দলে লা মাসিয়ার আটজন গ্র্যাজুয়েট খেলছেন—লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো ও মার্ক কুকুরেয়া। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দলে লা মাসিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন কেবল লিওনেল মেসি।
এই খেলোয়াড়দের মধ্যে মুনিয়োজ, কুকুরেয়া, গ্রিমালদো ও মেসি বর্তমানে বার্সেলোনার বাইরে খেললেও তাদের ফুটবল বেড়ে ওঠার শিকড় একই জায়গায়—লা মাসিয়া। বাকি খেলোয়াড়দের একটি অংশ এখনো বার্সেলোনার সঙ্গে যুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফাইনাল লা মাসিয়ার ঐতিহ্য ও প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলেও লা মাসিয়ার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। সেই দলে ভিক্টর ভালদেজ, কার্লেস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, সের্হিও বুসকেতস, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, পেদ্রো ও পেপে রেইনার মতো নয়জন খেলোয়াড় ছিলেন এই একাডেমির গ্র্যাজুয়েট।
এবারের ফাইনালে একটি বিষয় নিশ্চিত—শিরোপা যেই জিতুক না কেন, লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা অন্তত একজন খেলোয়াড়ের গলায় উঠবে বিশ্বকাপের পদক। স্পেনের একাধিক খেলোয়াড় কিংবা আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি—যেই হোক, এই একাডেমির প্রতিনিধিত্ব থাকছেই।
এছাড়া ম্যাচটি প্রতীকী অর্থে লা মাসিয়ার দুই প্রজন্মের লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একদিকে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ তারকা লিওনেল মেসি, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল—দুজনই এই একাডেমির পণ্য।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, লা মাসিয়ার অবদান এবং এর তৈরি খেলোয়াড়দের উপস্থিতি এই ফাইনালকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





