ঢাবি ছাত্রলীগমুক্ত হওয়ার পরই ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত—ডাকসু ভিপি

ঢাকা,১৮ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেদিন ছাত্রলীগমুক্ত হয়েছিল, সেদিনই দেশে ফ্যাসিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হবে না—এটি স্পষ্ট হয়ে যায় এবং শেখ হাসিনার পতন সুনিশ্চিত হয়।
শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘ক্যাম্পাস নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ডাকসুর উদ্যোগে ‘জুলাইয়ে সঞ্চারিত সাহস: গণরুম-গেস্টরুম পেরিয়ে নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি নেই। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির রাজনীতি ও জোরপূর্বক কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণের মতো পরিস্থিতি আর নেই।
ডাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পাসে সহিংসতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট সমাধানে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, অতীতের মতো কোনো সংগঠনকে পুনরায় গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু করার সুযোগ দিলে এর নেতিবাচক পরিণতি হবে।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতন নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার না হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী আশিক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের দূরত্ব তৈরি করা হয়েছিল এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আবাসনসংকট নিরসনের প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তির পর হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম আন্দোলনের কিছু কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।





