বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভাজন সৃষ্টিকারী বা উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি তিনি বলেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ জরুরি।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশকে ঘিরে যেসব বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়।
শনিবার ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাসানী জনশক্তি পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী রাষ্ট্র। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে নয়, বরং সুসম্পর্কের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী বাংলাদেশ। তবে সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এসব ঘটনা বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি সত্যিকার অর্থে সুসম্পর্ক চায়, তাহলে তাদের বক্তব্য ও আচরণের মধ্যেই সেই আন্তরিকতার প্রতিফলন থাকতে হবে।
আসন্ন ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং নদীর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে এখন দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটি কোনো নির্দিষ্ট দল বা সরকারের বিষয় নয়, বরং দেশের অস্তিত্ব ও স্বার্থের প্রশ্ন।
মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি জাতিকে কীভাবে সংগঠিত হয়ে দাঁড়াতে হয়, ফারাক্কা লংমার্চ তার শক্তিশালী উদাহরণ।
এ সময় ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার যথাসময়ে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততাসহ পরিবেশগত বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচি নতুন পরিকল্পনায় আবারও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়তা করা সম্ভব হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপিকে বিজয়ী করে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা ধর্মান্ধতা, উগ্রবাদ এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের মৌলিক চেতনা ও জাতীয় সত্ত্বাকে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এবং দলের মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. জসীম উদ্দিন আহমদ, সাবেক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।





