বটিয়াঘাটার তরুণ উদ্ভাবকের হাতে তৈরি ১২ আসনের বিদ্যুৎচালিত মিনি বাস

খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের কৈয়া বাজার এলাকার তরুণ উদ্ভাবক রিপন নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন ১২ আসনের একটি বিদ্যুৎচালিত মিনি বাস। সীমিত সামর্থ্য ও কর্মব্যস্ততার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।
কৈয়া বাজারে অবস্থিত তার প্রতিষ্ঠান রিপন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি ধীরে ধীরে নির্মাণ করছেন এই ব্যতিক্রমী মিনি বাসটি। ইতোমধ্যে বাসটির প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রিপনের তৈরি মিনি বাসটি সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত। এতে রয়েছে হুইল ব্রেক, হাতের গিয়ারসহ আধুনিক সুবিধা। দেখতে অনেকটা সাধারণ যাত্রীবাহী বাসের মতো হলেও এটি চলবে বিদ্যুতের শক্তিতে। ফলে কোনো ধরনের জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হবে না। একবার পূর্ণ চার্জে বাসটি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।
তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না রিপন। তার পরিকল্পনা রয়েছে বাসটির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করার। এতে চলন্ত অবস্থাতেও সূর্যের আলো থেকে ব্যাটারি চার্জ হবে। এই প্রযুক্তি যুক্ত করা গেলে বাসটির চলার সক্ষমতা ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার কিংবা তারও বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
রিপন জানান, পরিবেশবান্ধব এই যানবাহন বায়ুদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি সংকট ও পরিবেশ দূষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি বিকল্প ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা তৈরির চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, ১২ আসনের এই মিনি বাসটি ১২ জন যাত্রী বহন করে অনায়াসে উঁচু সড়ক বা ঢালু পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হবে। নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলে এটি স্থানীয় পর্যায়ে যাত্রী পরিবহনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, খুলনা শহর ও আশপাশের এলাকায় যানজট নিরসন এবং স্বল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহনে এমন ছোট আকারের বিদ্যুৎচালিত বাস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদেরও উৎসাহিত করবে।
তবে নিজের এই উদ্ভাবনী প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন রিপন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত উৎসাহ ও অর্থায়ন পেলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত মানের একাধিক বিদ্যুৎচালিত মিনি বাস তৈরি করতে চান।
গ্রামবাংলার এক সাধারণ কর্মশালা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে দেশের পরিবেশবান্ধব পরিবহন খাতে সম্ভাবনাময় এক উদ্ভাবন হিসেবে দেখছেন।





