চরমপন্থার ঠাঁই হবে না, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৬—বাংলাদেশে কোনো ধরনের চরমপন্থা ও উগ্রবাদের স্থান হবে না বলে দৃঢ় মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারা এমন একটি দেশ চেয়েছিলেন যেখানে ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আর কারও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির পুনর্গঠনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতীত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কুইক রেন্টালের মাধ্যমে এই খাতকে দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল।
সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে এবং বিরোধী ও সরকারি দল উভয়েই নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। এতে সংসদ প্রকৃত অর্থেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, গত ১৭ বছরে এবং জুলাই বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। সংসদে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইকো-ট্যুরিজম, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্লু-ইকোনমি খাতে ১০ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রতিবছর ৫ কোটি করে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি ১০ হাজার নতুন নার্সারি গড়ে তুলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
শিক্ষা খাতের সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে অটো প্রমোশন ও নকলের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে জোর দিচ্ছে এবং আগামী বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতকে উন্নত করতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে পাঁচটি বিভাগে শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার রূপ দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শেষে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতভেদ থাকতে পারে, তবে শত্রুতা নয়। ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার যেন আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।





