আসিয়ানকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: অং সান সু চি সুস্থ আছেন

নেপিডো/কুয়ালালামপুর, ১৪ জুলাই ২০২৬: বন্দী অবস্থায় থাকা মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রীয় নেত্রী অং সান সু চি সুস্থ আছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সোয়ে। রোববার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সু চির দেখভাল করা হবে এবং তাঁকে ‘আমাদের বোন’ বলে উল্লেখ করেন।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারিও বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে তাঁর ধারণা, অং সান সু চি সুস্থ আছেন। তিনি জানান, টিন মং সোয়ে বলেছেন, ‘তিনি আমাদের আত্মীয়, তিনি আমাদের বোন। তাই তাঁর দেখভাল করার দায়িত্ব আমাদেরই।’
দীর্ঘদিন ধরে বন্দী সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আসছেন লাজারিও। এ বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও জানান, তিনি এবং আসিয়ানের অন্যান্য সদস্যদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার প্রত্যাশার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, এতে সু চির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জান্তা সরকারের দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
আসিয়ানের ১১ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটি ছিল ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম সরাসরি বৈঠক। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা শান্তি উদ্যোগে গতি ফেরানোর লক্ষ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একাধিক ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সম্প্রতি জান্তা সরকার তাঁর সাজা এক-তৃতীয়াংশ কমানোর ঘোষণা দিলেও তিনি এখনও বন্দী রয়েছেন। তাঁর সহযোগীরা দাবি করে আসছেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই এসব মামলা করা হয়েছে। সু চিও অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
মিয়ানমারে চলমান সংঘাত বন্ধে আসিয়ান পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করলেও তা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে জান্তা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে দীর্ঘদিন ধরে আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। তবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।





