সদরের প্রাথমিক শিক্ষায় মনিকা পারভীনের ভূমিকার প্রশংসা, বদলি পুনর্বিবেচনার দাবি

নবী হোসেন লাদেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে নান্দাইল উপজেলায় বদলি ও পদায়নের ঘটনায় শিক্ষক-অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সদরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকা, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশে মনিকা পারভীনকে সদর থেকে নান্দাইলে এবং নান্দাইলের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছাকে সদর উপজেলায় বদলি করা হয়। আদেশে কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ‘ঘুষ.সাইট’–সংক্রান্ত অভিযোগের পর গত ৩১ আগস্ট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ ও মো. মুজিবুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়। এর মাত্র তিন দিনের মাথায় মনিকা পারভীনের বদলি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘুষ চাওয়া বা গ্রহণের অভিযোগ মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে নয়; তাঁর কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ‘ঘুষ.সাইট’-এর উদ্যোক্তা শাহেদ শরীফও মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ না থাকার কথা জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বদলির আদেশটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, মনিকা পারভীন প্রায় চার বছর একই কর্মস্থলে ছিলেন। পাশাপাশি নান্দাইলের কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছা আগে থেকেই ময়মনসিংহ সদরে বদলির আবেদন করেছিলেন। তাঁর মতে, ‘ঘুষ.সাইট’–সংক্রান্ত ঘটনার কারণে মনিকা পারভীনের বদলি হয়েছে—এমনটি মনে করার কারণ নেই।
মনিকা পারভীনও জানিয়েছেন, বদলি আদেশে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ থাকলেও নির্দিষ্ট কারণ তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি বদলি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে—এ বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর আবেদনের পক্ষে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সুপারিশ করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে নান্দাইলের কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধেও এর আগে বিদ্যালয় মেরামত, সিসি ক্যামেরা, শিক্ষক বদলি ও অফিস সরঞ্জাম কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে এবং তিনি নিয়ম অনুযায়ী আগেই বদলির আবেদন করেছিলেন।
শিক্ষক-অভিভাবকদের দাবি, বদলি প্রশাসনের এখতিয়ার হলেও সদর কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রমাণিত না হলে সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, তদন্তের ফল, বদলির প্রশাসনিক কারণ, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য স্পষ্ট হলে মনিকা পারভীনের বদলি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হবে। একই সঙ্গে সদরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকা বিবেচনা করে বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।





