সংগীতে সাফল্যে সন্তুষ্ট বাবা-মা, ফুটবল উন্মাদনায় ভরপুর পূজা

সংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের সুমিষ্ট কণ্ঠ আর নান্দনিক পরিবেশনায় শ্রোতাদের মুগ্ধ করে আসছেন। ২০০৮ সালে ‘সেরাকণ্ঠ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করা এই শিল্পী এখন নিজস্ব পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে তার বাড়তি উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ছে। গান, ফুটবল ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইব্রাহীম জাহিদ।
ফুটবল বিশ্বকাপের বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন পূজা। এ অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন তিনি উপস্থাপনা করছেন, তবে বাস্তবে তিনি বিভিন্ন ফুটবলভিত্তিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবেই উপস্থিত থাকেন। তার ভাষায়, বিশ্বকাপ এলেই ফুটবল নিয়ে ভীষণ রকমের উন্মাদনা কাজ করে। খেলার প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণেই এসব আয়োজনে অংশ নিতে ভালো লাগে এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারাটাও তার কাছে বিশেষ উপভোগ্য।
ব্যক্তিগত জীবনে ফুটবল নিয়ে একটি মজার পারিবারিক বিভাজনের কথাও জানান পূজা। তার বাবা-মা দুজনেই আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক হলেও তিনি নিজে ব্রাজিলের ভক্ত। তিনি বলেন, ছোটবেলায় ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবল দেখে বড় হয়েছেন। কাকা, রোনালদো ও রোনালদিনহোর মতো তারকাদের খেলা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। অন্যদিকে তার বাবা-মা দিয়েগো ম্যারাডোনার সময় থেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক। তবে এই ভিন্ন সমর্থন পরিবারে কোনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে না, বরং সবাই মিলে খেলার আনন্দ উপভোগ করেন।
সংগীতজীবনের সাম্প্রতিক কাজের প্রসঙ্গে পূজা জানান, শিল্পী কাজী শুভর সঙ্গে দুটি নতুন গান রেকর্ড করেছেন। দুটি গানই রোমান্টিক ঘরানার। এর মধ্যে একটি প্রকাশ পাবে শুভর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে এবং অন্যটি আসবে ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’-এর ব্যানারে। শুভর সঙ্গে তার আগের গানগুলোর মতো নতুন গানগুলোও শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলে আশাবাদী তিনি।
কাজী শুভর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে পূজা বলেন, তাদের জুটির গানগুলো বরাবরই শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়। একটি গান ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ মিলিয়ন দর্শকসংখ্যা ছুঁয়েছে এবং শিগগিরই ১০০ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। শ্রোতাদের এই ভালোবাসার কারণেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও তাদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।
নতুন কাজের প্রসঙ্গে তিনি জানান, নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও কাজ করছেন। আদর আজাদ ও পূজা চেরী অভিনীত ‘নাকফুলের কাব্য’ সিনেমার শিরোনাম গান তার কণ্ঠে রয়েছে, যা নিয়ে তিনি আশাবাদী।
পড়াশোনা ও পেশা নির্বাচন প্রসঙ্গে পূজা বলেন, তার বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি একজন প্রকৌশলী হোন। পড়াশোনায় তিনি বরাবরই মেধাবী ছিলেন এবং ভালো ফলাফল অর্জন করেছেন। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপও করেছিলেন। তবে করপোরেট চাকরির সীমাবদ্ধতা এবং সংগীতের প্রতি টান তাকে শেষ পর্যন্ত গানকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য করে। শুরুতে বাবা-মায়ের কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও এখন তার সাফল্যে তারা গর্বিত।
বর্তমান সময়ের ট্রেন্ডনির্ভর সংগীতজগতে মৌলিকত্ব বজায় রাখা নিয়ে পূজা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকার একমাত্র উপায় হলো নিজের মৌলিক গান। অন্যের গান গাওয়া বা জনপ্রিয় গান পরিবেশন করা যেতে পারে, তবে একজন শিল্পীর পরিচয় গড়ে ওঠে তার নিজস্ব সৃষ্টির মাধ্যমে। তিনি বিশ্বাস করেন, তার মৌলিক গানই তাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও বাঁচিয়ে রাখবে।
ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধন প্রসঙ্গে পূজা বলেন, তার পরিবারই তার শক্তির মূল উৎস। বাবা-মা, বোন ও স্বামী—সবাই তাকে শুরু থেকেই সমর্থন দিয়েছেন। বিশেষ করে সংগীতজীবনের শুরুতে পরিবারের সহায়তা না পেলে তিনি মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে পারতেন না। এখন মঞ্চে যখন দর্শকরা তার সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান গেয়ে ওঠেন, সেই ভালোবাসাকেও তিনি জীবনের অন্যতম বড় বন্ধন হিসেবে মনে করেন।





