মমেক হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা ও অগ্নিকাণ্ডের তথ্য গোপনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নবী হোসেন লাদেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের তথ্য গোপন ও মিথ্যাচারের অভিযোগের প্রতিবাদে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তারা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তথ্য গোপন ও মিথ্যাচারের অভিযোগে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এ এস এম হুমায়ুন কবীর এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন ও উপপরিচালক জাকিউল ইসলামের অপসারণ দাবি করেন। একই সঙ্গে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভে পথচারী ও রোগীর স্বজনদের অনেকে সংহতি প্রকাশ করেন। এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মমেক হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের পর হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে নারী-শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবর পুলিশ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে উল্লেখ রয়েছে বলে
আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে ওই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিভাগীয় কমিশনার এ এস এম হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, পদদলিত হয়ে কেউ মারা যায়নি এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি অসত্য। একই ধরনের বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ও মসিক প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান সরকার। এতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের তথ্যের মধ্যে গরমিল নিয়ে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে মমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী শনিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।





