টানা বৃষ্টিতে বগুড়ায় ৪১৭ হেক্টর ফসল তলিয়ে ক্ষতি, বাড়ছে সবজির দাম

বগুড়া, ১৬ জুলাই ২০২৬: টানা বৃষ্টিতে বগুড়ায় ৪১৭ হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে গত এক সপ্তাহে সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসের ভারী বর্ষণে জেলার ৪১৭ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে এবং এতে ৪ হাজার ৯৬১ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবজি, পাট এবং আমনের বীজতলা।
১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রস্তুত করা প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কাও রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে এক কৃষক জানান, গত বছর কচু চাষে লাভ হওয়ায় এবারও আবাদ করেছিলেন। তবে টানা বৃষ্টিতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং জমির অবশিষ্ট ফসলও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত বগুড়ায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জুলাই ১০৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ১৩ ও ১৪ জুলাই মিলিয়ে ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১৭ জুলাই থেকে আবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সারিয়াকান্দি, যেখানে ১৮৮ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। এছাড়া কাহালুতে ৭৫ হেক্টর, দুপচাঁচিয়ায় ৫৫, আদমদীঘিতে ৪৫, সোনাতলায় ৩৮, শিবগঞ্জে ১৭ এবং শাজাহানপুরে ১৪ হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে।
ফসলভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমনের বীজতলায় (১২৬ হেক্টর), পাটে (১১৫ হেক্টর) এবং সবজিতে (১০৬ হেক্টর)। এছাড়া আউশ ধান ৩৪ হেক্টর, মরিচ ২৩ হেক্টর এবং অন্যান্য ফসল ১৩ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ক্ষতির প্রভাব সামনের মৌসুমেও উৎপাদন ও বাজারে পড়তে পারে।
এদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাবে স্থানীয় কাঁচাবাজারে সবজির দাম দ্রুত বেড়েছে। এতে একদিকে কৃষক ফসল হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে ভোক্তাদের বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে কৃষি উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থায় আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।






