‘স্লিপ শেমিং’ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্বে জোর বিশেষজ্ঞদের

ঘুমের অভ্যাস নিয়ে সমালোচনা বা লজ্জা দেওয়ার প্রবণতা, যা ‘স্লিপ শেমিং’ নামে পরিচিত, বর্তমানে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের সময় বা অভ্যাসকে কেন্দ্র করে কাউকে অলস বা দায়িত্বজ্ঞানহীন বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয় এবং এটি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ভোরে ওঠাকে সফলতার সঙ্গে যুক্ত করা হলেও এটি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। প্রত্যেক মানুষের শরীরে ভিন্নধর্মী জৈবিক ঘড়ি বা ‘ক্রোনোটাইপ’ কাজ করে, যা জিন, বয়স, হরমোন এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভরশীল। ফলে কেউ ভোরে বেশি সক্রিয় থাকেন, আবার কেউ রাতে বেশি মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে সক্ষম হন।
চিকিৎসকদের তথ্যমতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। এই সময়েই শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মস্তিষ্ক দিনের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এছাড়া, ঘুমের স্বাভাবিক চক্র মাঝপথে ভেঙে দিলে তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মানুষের ঘুম সাধারণত ৯০ মিনিটের বিভিন্ন চক্রে সম্পন্ন হয়। গভীর ঘুমের সময়ে কাউকে জাগিয়ে দিলে মাথা ভার লাগা, মনোযোগে ঘাটতি, বিরক্তি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া ও কর্মক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি থাকে।
বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে দেরিতে ঘুমানো ও দেরিতে জাগা স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এটিকে অলসতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা, ঘুমানোর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমানো, বিকেলের পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং শান্ত ও আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্যের ঘুমের সময় নিয়ে সমালোচনা না করে বরং তিনি পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম পাচ্ছেন কি না, সেটি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থ শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।





