হ্যান্ড অব গড: ৪০ বছর পরও বিতর্কের কেন্দ্রেই ম্যারাডোনার সেই গোল

স্পোর্টস ডেস্ক | ১৫ জুলাই ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসে বহু বিতর্কিত গোলের নজির থাকলেও আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি এখনও সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা এই গোলের ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল, যা নতুন করে সামনে এনেছে সেই ঘটনার স্মৃতি।
মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধে হোর্হে ভালদানোর উদ্দেশে দেওয়া পাস থেকে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্টিভ হজের ভুল ক্লিয়ারেন্সে বল উঁচু হয়ে নিজেদের বক্সে উঠে যায়।
সেই বলের দখল নিতে গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে লাফ দেন ম্যারাডোনা। উচ্চতায় পিছিয়ে থাকায় তিনি বাঁ হাত দিয়ে বল স্পর্শ করে জালে পাঠান। রেফারি ও সহকারী রেফারি কেউই হ্যান্ডবলটি দেখতে না পাওয়ায় গোলের সিদ্ধান্ত দেন। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের প্রতিবাদ সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।
গোল উদযাপনের সময় ম্যারাডোনা কয়েক মুহূর্ত রেফারির দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন যে গোলটি বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে কি না।
এর মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা আরেকটি গোল করেন, যা পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একাই একাধিক ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে গোলটি করেন তিনি।
ম্যাচের শেষদিকে ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকার একটি গোল শোধ করলেও ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে বেলজিয়াম ও পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে দলটি।
গোলটি বাতিল না হওয়ার পেছনে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সে সময় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) চালু ছিল না। ম্যাচের প্রধান রেফারি আলী বিন নাসের এবং সহকারী রেফারি বোগদান দোচেভ—দুজনের চোখ এড়িয়ে যায় ঘটনাটি।
২০২০ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলী বিন নাসের বলেন, তিনি ঘটনাটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি এবং সহকারী রেফারির সংকেতের ওপর নির্ভর করেছিলেন। সহকারী কোনো আপত্তি না জানানোয় তিনি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
অন্যদিকে, ২০১৭ সালে মৃত্যুর আগে বোগদান দোচেভ জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত পেলেও সে সময়ের নিয়ম অনুযায়ী সহকারী রেফারির স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল না।
চার দশক পেরিয়েও ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি ফুটবল ইতিহাসে বিতর্ক, আলোচনা এবং বিশ্লেষণের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে রয়েছে।






