বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্থিরতা, মাছ-সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি

ঢাকা, ১৭ জুলাই — টানা বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে এখনো অস্থিরতা কাটেনি। পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে মিঠাপানির বড় মাছের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে ইলিশ ও জাটকা পাওয়া গেলেও দাম তুলনামূলক বেশি। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ বাড়লেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আড়ত থেকে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।
মুরগির বাজারও এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সোনালি ও লেয়ার জাতের মুরগির দাম চড়া অবস্থায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮৫ টাকায়, আর দেশি মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৭০০ টাকা।
মধ্যবিত্তের আমিষের অন্যতম উৎস ডিমের দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে লাল ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা, সাদা ডিম ১২৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। অধিকাংশ সবজি কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। ভালো মানের কাঁচা মরিচ ও শসার দাম ২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তবে কিছু পণ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। আমদানি বাড়ায় টমেটোর দাম কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি পেঁপে, পেঁয়াজ ও আলু তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক সবজিক্ষেত পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ফলনের ক্ষতি হয়েছে, ফলে সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন মৌসুমের সবজি বাজারে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অনেক ক্রেতার অভিযোগ, পর্যাপ্ত বাজার তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন।





