পানি নামার সঙ্গে দৃশ্যমান বন্যার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

চট্টগ্রাম, ১৫ জুলাই:বন্যার পানি কমতে শুরু করায় দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। ঘরবাড়ি ধসে পড়া, ফসল নষ্ট হওয়া এবং সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঘটনা বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়ার ইলশা গ্রামে বন্যার পানিতে রিমা আক্তারের মাটির ঘর ভেঙে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে এসে ভাঙা ঘর দেখে তিনি উদ্বেগে পড়েন। একইভাবে বান্দরবানের শীলক খালের উত্তর পাড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ পারভেজ জানান, ঘর ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাহাড়ি ঢলের স্রোতে তাঁর বসতঘরটি ভেসে গিয়ে পাশের একটি বেইলি সেতুর ওপর আছড়ে পড়ে। এতে তাঁর আসবাব, খাদ্যশস্যসহ সব সম্পদ ভেসে যায়। তাঁর প্রতিবেশী জেবেল মুল্লুকও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হচ্ছে। কোথাও ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, কোথাও ফসল নষ্ট হয়েছে। পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। পাহাড়ি ঢল ও বন্যার স্রোতে সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক থেকে পানি সরে গেলেও সেগুলো চলাচলের উপযোগী নেই।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারও বন্যাকবলিত হয়েছে।
তবে এখনো বন্যার ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। অনেক এলাকায় পানি পুরোপুরি না নামায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।






