দুই দিনে সাড়ে ৬ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় চলতি সপ্তাহে টানা দুই দিন ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে। প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। এর আগের দিন একই দরে আরও সাড়ে ৪ কোটি ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি মে মাসে এখন পর্যন্ত বাজার থেকে মোট সাড়ে ১৪ কোটি ডলার কেনা হয়েছে।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়তে থাকায় রেমিট্যান্সেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। মে মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশে এসেছে ১৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯২ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর পুরো মে মাসজুড়ে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ অথবা ২৯ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। এ সময় পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের প্রথম ১১ দিন পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই চলতি অর্থবছরে সেই পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে অনেক ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নির্ধারিত সীমার ওপরে চলে গেছে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় তুলনামূলক কম থাকায় ডলারের চাহিদাও সীমিত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার থেকে অতিরিক্ত ডলার কিনে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তাঁদের মতে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে, অন্যদিকে ডলারের বিনিময় হারও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৫৮১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।





