গবেষণায় মিলল মা-বাবার সন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ

গবেষণায় দেখা গেছে, মা-বাবারা অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানদের মধ্যে অজান্তেই ভিন্ন আচরণ করেন এবং তুলনামূলকভাবে মেয়েসন্তান ও বেশি অনুগত বা দায়িত্বশীল সন্তানদের প্রতি কিছুটা বেশি স্নেহ বা ইতিবাচক মনোভাব দেখান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটার ব্রিঘাম ইয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই বিশ্লেষণে ৩০টি গবেষণা ও প্রায় ২০ হাজার মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ফিজিওলজিক্যাল বুলেটিন জার্নালে।
গবেষণার মূল বিষয়গুলো হলো:
- মা-বাবারা সাধারণত কন্যাসন্তানের প্রতি তুলনামূলক বেশি পক্ষপাত দেখান।
- যেসব সন্তান বেশি “অনুগত”, “দায়িত্বশীল” বা “বিবেকবান” স্বভাবের, তারা বেশি ইতিবাচক আচরণ পায়।
- এই পক্ষপাত মানেই যে একজন সন্তানকে ভালোবাসা আর অন্যজনকে অপছন্দ করা—বিষয়টি তা নয়।
- বরং কারও সঙ্গে বেশি সময় কাটানো, বেশি সহানুভূতি দেখানো বা তুলনামূলক নমনীয় আচরণ করাই এখানে “পক্ষপাত” হিসেবে ধরা হয়েছে।
গবেষণার সহলেখক Alexander Jensen বলেন, সন্তানেরা যদি বুঝতে পারে কেন ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে, তাহলে সেটি তাদের কাছে কম নেতিবাচক মনে হয়। উদাহরণ হিসেবে, ছোট ভাই-বোন বেশি সাহায্য পাচ্ছে কারণ তার বেশি সহায়তা দরকার—এটি বড় সন্তান বুঝতে পারলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া কম হয়।
তবে গবেষকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাও ছিল:
- গবেষণার বেশির ভাগ তথ্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও পশ্চিম ইউরোপের পরিবার থেকে।
- তাই বিশ্বের অন্যান্য সংস্কৃতি বা সমাজে একই ফল পুরোপুরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
গবেষণাটি পারিবারিক সম্পর্ক ও শিশুদের মানসিক বিকাশ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, আগের বহু গবেষণায় দেখা গেছে—যেসব শিশু বেশি স্নেহ, সমর্থন ও ইতিবাচক মনোযোগ পায়, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও শিক্ষাগত ফলাফল তুলনামূলক ভালো হয়।






