আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড ম্যাচের উত্তাপ: ইতিহাসের পাঁচ বিতর্কিত ঘটনার প্রভাব

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল লড়াই সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও, প্রতিটি ম্যাচই কোনো না কোনো বিতর্কিত ঘটনা বা ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনার প্রভাবেই দুই দলের দ্বৈরথ সময়ের সঙ্গে পেয়েছে বাড়তি উত্তাপ ও বিশেষ গুরুত্ব।
ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড ম্যাচগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
১৯৬৬ বিশ্বকাপে ওয়েম্বলিতে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন। ভাষাগত সমস্যার কারণে সিদ্ধান্ত বুঝতে না পেরে রাতিন মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ডাকা হয়। সে সময় ফুটবলে হলুদ বা লাল কার্ড চালু না থাকলেও এই ঘটনার পরই কার্ড ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে এবং পরবর্তীতে তা চালু করা হয়।
১৯৭৭ সালে বুয়েনোস আইরেসে এক প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরি ও আর্জেন্টিনার দানিয়েল বার্তোনির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একটি ট্যাকলের জেরে বার্তোনির ঘুষিতে চেরির সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়। ঘটনার পর উভয় খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়।
২০০২ বিশ্বকাপে জাপানের হোক্কাইদোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একটি পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েনকে ফাউল করার অভিযোগে আর্জেন্টিনার মরিসিও পচেত্তিনোর বিরুদ্ধে পেনাল্টি দেন রেফারি পিয়েরলুইজি কলিনা। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেন ডেভিড বেকহাম। ম্যাচ শেষে পচেত্তিনো দাবি করেন, তিনি ওয়েনকে স্পর্শই করেননি।
এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড দুই দলের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে। ডিয়েগো সিমিওনের ফাউলের পর প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে বেকহাম মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ১০ জনের দল নিয়েও ইংল্যান্ড ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়।
তবে দুই দলের দ্বৈরথের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ঘটে। কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার করা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। একই ম্যাচে তিনি আরও একটি একক নৈপুণ্যের গোল করেন, যা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই ম্যাচে ২–১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা এবং পরবর্তীতে বিশ্বকাপ শিরোপাও জেতে।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলোই আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড ম্যাচকে সাধারণ ফুটবল লড়াইয়ের বাইরে এনে ঐতিহাসিক ও আবেগঘন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ দিয়েছে।





