সরকারকে সফল করতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারকে সফল করতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (কেআইবি) এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সবার উদ্দেশে আমি একটি কথাই বলব, আমাদের সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই সময়টি হেসে-খেলে অবহেলায় পার করে দিলে দেশের এক বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। ক্ষতি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে আপনার হবে না, কিন্তু ক্ষতি হবে সমগ্র দেশের এবং আমাদের আগামী প্রজন্মের। কাজেই আসুন, শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন করতে চেয়েছিলেন, যে দর্শনে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আমরা ঠিক সেই ধারাতেই আজ দেশকে পরিচালনা করার চেষ্টা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকার, যার সুনির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ রয়েছে। আমাদের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার রয়েছে, যা আমরা নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলাম। দেশের মানুষ সেই পরিকল্পনা দেখেছে, শুনেছে এবং তা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের ওপর দেশ গড়ার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। জাতীয় সংসদে যে ২১৪ জন সংসদ সদস্য এবং ৫০ জন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য রয়েছেন, কেবল আমাদের একার পরিশ্রমে এই বিশাল লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এটি সফল করতে আপনাদের প্রত্যেকের সক্রিয় সহায়তা প্রয়োজন হবে।’
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান
দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, আইনজীবী ফোরাম, তাঁতী দল, শ্রমিক দলসহ আমাদের মূল দল ও সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের একটি কথা মনে রাখতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে আপনারা যেভাবে গ্রামে, গঞ্জে, হাটে, বাজারে, উপজেলায়, পৌরসভায় এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দলের জন্য সফলতা ছিনিয়ে এনেছিলেন, ঠিক একইভাবে এখনো কাজ করে যেতে হবে। কারণ আমাদের কাজ কিন্তু এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে আমাদের এই পরিশ্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে হবে।'
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, 'ভোটের মাধ্যমে যেভাবে আমরা জনগণের রায় নিয়ে জয়ী হয়ে এসেছি, ঠিক একইভাবে আমাদের গৃহীত উন্নয়নমূলক কাজগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সফল সরকার হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। জনগণের দৃষ্টিতে আমাদের একটি অনুকরণীয় ও সফল সরকার হতে হবে।'
২০২৪ ও ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট
দলের প্রতিষ্ঠাতার ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সফল গণ-আন্দোলন করেছি। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সফল নির্বাচনও পার করে এসেছি। এখন আসুন, আমরা সকলে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করি, যাতে সফলতার সঙ্গে সরকারের যাবতীয় কার্যক্রমের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।





