জামায়াত থেকে বহিষ্কার গাজী নজরুল, এমপি পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা

সাতক্ষীরা, : সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এই অনিশ্চয়তার মূল কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে তার আসন শূন্য হবে। তবে ‘দল থেকে বহিষ্কার’ সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট উল্লেখ সেখানে নেই।
এ প্রসঙ্গে আইন বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, কেবল বহিষ্কারের মাধ্যমে কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিষয়টি নির্ভর করবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে যদি কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়— কোনো সংসদ সদস্য আসন হারিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে সংসদের স্পিকারের।
এর আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলত্যাগ বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতার কারণে অনুচ্ছেদ ৭০ প্রযোজ্য হওয়ার নজির রয়েছে। তবে বহিষ্কারের ঘটনায় সরাসরি আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট দৃষ্টান্ত তুলনামূলকভাবে কম।
এ অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় অবস্থান নির্ধারণে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।





