বিদেশে চিকিৎসা খাতে বৈধ অর্থ প্রেরণ চার বছরে ১০ গুণ বৃদ্ধি

ঢাকা, ১৯ জুলাই: বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ গত চার বছরে প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে এই খাতে ৩৪ লাখ ডলার পাঠানো হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত শিথিলতার কারণে বৈধ পথে অর্থ পাঠানো বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে চিকিৎসার জন্য পূর্বানুমতি ছাড়াই অর্থ পাঠানোর সীমা ১০ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করে।
একই সঙ্গে হাসপাতালের নামে বা আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ বহনের অনুমতিও রয়েছে।
তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্যাংকারদের মতে, ১৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় অনেকেই অনানুষ্ঠানিক পথ বেছে নেন। তারা প্রস্তাব করছেন, চিকিৎসকের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বেশি অঙ্কের অর্থ ছাড়ের সুযোগ দিলে বৈধ লেনদেন বাড়তে পারে এবং হুন্ডির ব্যবহার কমবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতে বৈধ অর্থ প্রেরণ কমে ১৮ লাখ ডলারে নেমে আসে। পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ১ কোটি ডলারে উন্নীত হয় এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলারে পৌঁছায়।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈধ পথে পাঠানো অর্থ বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রকৃত চিত্রের খুবই সামান্য অংশ। বিভিন্ন হিসাবে প্রতি বছর বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন, যার বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।




