ফুলতলায় টিউবওয়েল প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
খুলনার ফুলতলা উপজেলার ৩ নম্বর জামিরা ইউনিয়নে গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল ইসলামের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত নলকূপ স্থাপনের পরিবর্তে নামমাত্র অবকাঠামো নির্মাণ করে প্রকল্পের বিপুল অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাতারভিত্তিক একটি দাতা সংস্থার অর্থায়নে এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বেশ কয়েকটি স্থানে প্রকৃত অর্থে গভীর নলকূপ স্থাপন না করে মাত্র দুই থেকে তিন হাত গর্ত খনন, কিছু পাইপ বসানো এবং পুরাতন টিউবওয়েলের গোড়া পাকা করে নতুন কাজ দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সেই স্থাপনার ছবি তুলে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, জামিরা ইউনিয়ন এলাকায় একটি গভীর নলকূপ সাধারণত প্রায় ১ হাজার ফুট গভীরতায় স্থাপন করতে হয়। স্থানীয় ঠিকাদাররা প্রতি ফুট খনন বাবদ ২০ থেকে ২৪ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। সে হিসাবে ১ হাজার ফুট গভীর নলকূপ স্থাপনে খনন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৪ হাজার টাকা। এছাড়া পাইপ, হ্যান্ড পাম্প, প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য উপকরণসহ মোট ব্যয় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, কাতারভিত্তিক দাতা সংস্থা একটি গভীর নলকূপের জন্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। পাশাপাশি উপকারভোগীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে একটি নলকূপে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অথচ প্রকৃত ব্যয় সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় প্রতি নলকূপে প্রায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, যদি একই পদ্ধতিতে ১০০টি নলকূপ স্থাপন করা হয়ে থাকে, তাহলে প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এদিকে প্রকল্পের কাজে যুক্ত একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছু ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ গভীর নলকূপ স্থাপন ছাড়াই শুধু অবকাঠামোগত কাজ করে ছবি তোলার পর কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। এমনকি এর আগেও একই ধরনের অন্তত দুটি প্রকল্পে অনুরূপ পদ্ধতিতে কাজ সম্পন্ন দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর মানবিক সহায়তার অর্থ যদি প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে না পৌঁছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু অর্থ আত্মসাতই নয়, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থাও নষ্ট করবে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য উপজেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।





