পাটগ্রামের ৪ যুবককে দেশে ফেরানো ও দোষীদের বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

শাহ আনিস আরাফাত রাজিন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি।
উচ্চ বেতনের প্রলোভনে রুশ সেনাবাহিনীতে বিক্রি:
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চার যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
যুবকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে সোমবার পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পাটগ্রাম উপজেলা যুববিভাগের সভাপতি ইউনুস আলী, সাবেক শিবির নেতা মাহিন এবং পাটগ্রাম পৌর জামায়াতের আমির সোহেল রানার সহায়তায় উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে আর এস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে চার যুবককে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। পরিবারগুলোর দাবি, জনপ্রতি প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে গত ৭ মে তারা রাশিয়ায় পাড়ি জমান।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই যুবকেরা বুঝতে পারেন যে তাদের প্রতিশ্রুত চাকরিতে নয়, বরং রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মানবপাচার ও প্রতারণার মাধ্যমে যুবকদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
তারা দ্রুত সরকারি পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে চার যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
গত শনিবার চার পরিবার পাটগ্রাম থানায় ইউনুস, সোহেল রানা ও মাহিনকে আাসামি করে চারটি পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পাটগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল। তিনি বলেন, প্রলোভন দেখিয়ে দেশের যুবকদের বিদেশে পাঠিয়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরিবারগুলোর দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আটকে পড়া যুবকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।





