নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, পলাতক অভিযুক্ত

নেত্রকোনা, ৫ আগস্ট ২০২৬: নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া (৩০)-এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক এবং তাকে খুঁজছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা-এ মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, ভিডিও তৈরির কথা বলে রিপন মিয়া আগে থেকেই ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। সামাজিক লজ্জার কারণে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর একটি দলীয় কার্যালয়ে সালিশের আয়োজন করা হয়, যেখানে অভিযুক্ত অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে উপস্থিত কয়েকজন দাবি করেছেন। ওই বৈঠকে তাকে জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার চেষ্টা আইনবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে প্রীতম সোহাগ বলেন, এমন অপরাধের বিচার অবশ্যই আইন অনুযায়ী পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত। দলীয় কার্যালয়ে বসে বিচার করার চেষ্টা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।






