জেল থেকে মুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন হারুন সরদার

খুলনা জেলা প্রতিনিধি: ফাহিম ইসলাম
বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ও কৈয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন সরদার দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে মুক্ত হয়ে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন।
মুক্তির পর তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এ সময় কৈয়া বাজার এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
কুশল বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জলমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহ আলম, বটিয়াঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগরসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও কৈয়া বাজার কমিটির সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা হারুন সরদারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তার শারীরিক খোঁজখবর নেন। দীর্ঘদিন পর নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে আসতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের অবদান তিনি কখনো ভুলবেন না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হারুন সরদার বলেন, “আমাকে দলীয়ভাবে কোনো হয়রানির শিকার হতে হয়নি। মূলত জামায়াতের কিছু নামধারী এজেন্ট, যারা জাতীয় নির্বাচনের সময়ও জামায়াতের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে, তারাই আমাকে হয়রানির মুখোমুখি করেছে। আমি দেশের আইনকে শ্রদ্ধা করি এবং আইনের প্রতি আস্থা রেখে নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেছি। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমি মুক্তি লাভ করেছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কাউকে প্রকাশ্যে ভূমিদস্যু বললেই তা সত্য প্রমাণ হয়ে যায় না। এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকতে হবে। দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। তারা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করবে। শুধু মুখে বললেই কেউ ভূমিদস্যু হয়ে যায় না। আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়, যা ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, কৈয়া বাজার কমিটির আহাদকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় পুলিশ হারুন সরদারকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীতে তিনি আদালতের মাধ্যমে কারাভোগ শেষে মুক্তি লাভ করেন। মুক্তির পর তিনি নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবিষ্যতে সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।






