খুলনার মিয়াপাড়ায় ৩,৯৫৮ পিস ইয়াবাসহ চারজন গ্রেপ্তার, একজনের কাছে বিএনপি মিডিয়া সেলের আইডি কার্ড

খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
খুলনা নগরীর সদর থানার মিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গ্রেপ্তারদের মধ্যে নাসির উদ্দীন সেন্টু নামে এক ব্যক্তির কাছে বিএনপি মিডিয়া সেলের পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুঁটিখালী গ্রামের নাসির উদ্দীন সেন্টু (৩৭), তার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৩২), কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী গ্রামের মারিয়াম (২০) ও আয়শা। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, নাসির উদ্দীন সেন্টু ও সাফিয়া বেগম বর্তমানে খুলনা সদর থানার মিয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
র্যাব-৬ জানায়, অভিযানের সময় গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে মোট ৩ হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি মোতাবেক এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
একজনের কাছে বিএনপি মিডিয়া সেলের আইডি কার্ড
এদিকে গ্রেপ্তার নাসির উদ্দীন সেন্টুর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় নিয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। র্যাবের অভিযানের পর তার কাছে বিএনপি মিডিয়া সেলের একটি পরিচয়পত্র থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি খুলনায় ওই পরিচয়ে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া নাসির উদ্দীন সেন্টু খুলনা টাউন ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানা গেছে।
তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে তাকে খুলনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং জিয়া প্রজন্ম দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও পরিচয় দিতে দেখা যায়। তবে এসব সাংগঠনিক পদ ও পরিচয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মামলা প্রক্রিয়াধীন
র্যাব-৬ জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের উদ্ধার করা ইয়াবাসহ সদর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
আইনগতভাবে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।





