আমিরাত থেকে বিতাড়নের অভিযোগ, লাগেজ-সঞ্চয় ছাড়াই ফিরছেন পাকিস্তানি শিয়ারা

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চকওয়াল অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরত আসা শিয়া মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, শুধু চাকরি হারিয়েই নয়, বরং দেশে ফেরার সময় ব্যক্তিগত লাগেজ ও বহু বছরের সঞ্চিত অর্থও সঙ্গে আনতে পারেননি।
ধারণা করা হচ্ছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরত পাঠানো হাজারো পাকিস্তানি শিয়ার একটি অংশ এরা। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তদন্ত শুরু করেছে।
রয়টার্স ১০৩ জন পাকিস্তানি নাগরিকের অভিবাসনসংক্রান্ত নথি, ভিসার স্ক্রিনশট ও ভ্রমণতথ্য পর্যালোচনা করেছে। তাঁদের সবাই নিজেদের শিয়া মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, তাঁদের আমিরাত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছে বার্তা সংস্থাটি।
সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, ফেরত পাঠানোর আগে তাঁদের লাগেজ বা সঞ্চয় সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনেককে একই ফ্লাইটে একসঙ্গে তুলে দেশে পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তানের শিয়া রাজনৈতিক সংগঠন মজলিশ ওয়াহদাত-ই মুসলিমিন-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৫০০ পাকিস্তানি শিয়াকে আমিরাত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র মহসিন আবিদি মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
পাকিস্তানে প্রায় ৪ কোটি শিয়া মুসলিম বাস করেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে আমিরাত কর্তৃপক্ষ কী ভিত্তিতে এসব ব্যক্তিকে বেছে নিয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বহিষ্কার করা হয়নি; বরং যাঁদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাঁরা দেশটির নিয়ম ভঙ্গ করেছিলেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, চলতি বছর বহিষ্কারের সংখ্যা ‘স্বাভাবিক পর্যায়ে’ রয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি তারা।
তবে পাকিস্তান সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের বড় অংশই শিয়া মুসলিম এবং বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। কূটনৈতিক কারণে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে শিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ নতুন নয়। মেনা রাইটস গ্রুপ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি শিয়া নাগরিকদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী আটক ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে যা আরও বেড়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
প্রবাসী পাকিস্তানিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ওভারসিজ পাকিস্তানিস জানায়, প্রায় ১৮ লাখ পাকিস্তানি বর্তমানে আমিরাতে কাজ করেন এবং প্রতিবছর তারা ৬০০ কোটির বেশি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে তারা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দুবাই মেট্রোর সাবেক এক ব্যবস্থাপক বলেন, “চোখের পলকে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”






