৫ আগস্ট লুট হওয়া ১,৩০৯ আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি

খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন দেশের বিভিন্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সুযোগে লুট হওয়া বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে এখনো *১ হাজার ৩০৯টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি*।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত লুট হওয়া *৪ হাজার ৪৫৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার* করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১ হাজার ৩০৯টি অস্ত্র। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৫টি গোলাবারুদ; আরও *২ লাখ ৫৭ হাজার ১১৩টি গোলাবারুদের* হদিস পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০৯টি চায়না রাইফেল, ৩০টি চায়না এসএমজি, ৩টি এলএমজি, ২০৩টি ৭.৬২ মিমি পিস্তল, ৪৪২টি ৯ মিমি পিস্তল, ৩৮৪টি ১২-বোর শটগান, ১২৮টি গ্যাস গান, ৭টি ৩৮ মিমি টিয়ার-গ্যাস লঞ্চার ও ২টি সিগন্যাল পিস্তল।
অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ধীরগতিতে হলেও মাঝেমধ্যে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে।
অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে গত ২৯ আগস্ট নতুন করে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে। ইউনিটটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাঠে কাজ শুরু করেছে।
অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের জন্য আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। ভারী অস্ত্রের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা, পিস্তল, রিভলবার ও শটগানের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্রের তথ্য দিলে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া কয়েকটি অস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলাকাটা মোবারক’-এর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ৯ মিমি পিস্তল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশের হিসাবে, লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছিল ১ হাজার ১১৪টি চায়না রাইফেল, ২৫৩টি চায়না এসএমজি, ৩৪টি এলএমজি, ৫৩৯টি ৭.৬২ মিমি পিস্তল, ১ হাজার ৯২টি ৯ মিমি পিস্তল এবং ২ হাজার ৭৯টি ১২-বোর শটগান।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, লুট হওয়া কিছু অস্ত্র অপরাধীদের হাতে চলে যেতে পারে। আবার কিছু অস্ত্র আতঙ্কিত মানুষ নিয়ে যাওয়ার পর ফেলে দিয়েছে কিংবা পরে জমা দিয়েছে। তবে এখনো উদ্ধার না হওয়া ১ হাজার ৩০৯টি অস্ত্রের কতগুলো কার হাতে, কোথায় রয়েছে কিংবা কতগুলো সীমান্ত পেরিয়ে গেছে—এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পুলিশের কাছে নেই।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, অবশিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান চলছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।





