১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে যা বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের করা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা–৪ (দেবীদ্বার) আসনের এই সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, যে অর্থের কথা বলা হচ্ছে, সেটি কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি; বরং উপজেলার উন্নয়ন বাজেট হিসেবে বরাদ্দ ছিল।
এর আগে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “জেলা পরিষদের প্রশাসক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দিয়ে মূলত উপজেলার জন্য বরাদ্দ বাজেটের কথাই বোঝানো হয়েছে। এ টাকা কোনো ব্যক্তির হাতে দেওয়া হয় না, উপজেলাকে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, দেবীদ্বার উপজেলায় কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। একইভাবে, ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার হিসাবও উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজনে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমি আমার এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন হলে যেকোনো জায়গা থেকে সহায়তা চাইতে প্রস্তুত। কারণ, এটি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, জনগণের জন্য।”
তিনি দাবি করেন, আলোচিত অর্থ স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলায় এডিপি প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই অর্থ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।
জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “এভাবে বলা হয়েছে যেন আমরা ব্যক্তিগতভাবে টাকা আত্মসাৎ করেছি। বাস্তবে এসব অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। এটি রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, বরং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ।”





