মেটায় বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু করেছে। বুধবার থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে মূল গুরুত্ব পাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ।
ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। বৃহৎ পরিসরের কর্মী ছাঁটাইয়ের সময় এটি মেটার পরিচিত কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়। পরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময় অঞ্চলের কর্মীদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে ছাঁটাই–সংক্রান্ত নোটিশ পাঠানো হয়। জানা গেছে, কিছু কর্মী স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকেও এমন বার্তা পেয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন সময় অঞ্চলের ভিত্তিতে ভাগ করে সম্পন্ন করা হয়েছে।
রয়টার্সের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আরও সরল ও কার্যকর কাঠামোয় যেতে চায়। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জেনেল গেইল কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় জানান, নতুন ব্যবস্থায় ছোট ছোট কর্মীদল গঠন করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় এবং কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগের প্রভাব
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কর্মী ছাঁটাই মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় বিনিয়োগ এবং কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ। চলতি বছরে এই খাতে প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
একই সঙ্গে বড় সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট, দ্রুতগতির এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুরোনো অনেক পদ বাতিল করে নতুন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর দায়িত্বও তৈরি করা হচ্ছে।
কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
ছাঁটাইয়ের খবর প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ বেড়েছে। অনেকেই ভবিষ্যতের চাকরি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। কিছু কর্মী আগেভাগেই নিজেদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত জিনিস সংগ্রহ শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন ধরনের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা চালুর অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এমন পদক্ষেপ কর্মপরিবেশকে আরও চাপের মধ্যে ফেলতে পারে।
প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের বড় ধারা
মেটার এই সিদ্ধান্ত একক কোনো ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন চলছে। বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা কমানো এবং সাংগঠনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে বৃহৎ কর্মীবাহিনীনির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে দক্ষতা ও প্রযুক্তিকেন্দ্রিক ছোট দল তৈরির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর খাত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাময়িক অর্থনৈতিক সংকটের ফল নয়; বরং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অংশ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন সফটওয়্যার ও যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমে আসছে।
এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কর্মীদের গুরুত্ব দিচ্ছে, যাঁরা জটিল সমস্যা সমাধান, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ পরিচালনায় দক্ষ।





