মধ্যপ্রাচ্যে হামলার পর কুয়েত ও জর্ডানকে ইরানের বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানোর পর কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির হামলায় একাধিক ঘাঁটির বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জর্ডানের আজরাকে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এর পরপরই জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘নাসর-২’ অভিযানের ষষ্ঠ ধাপে মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের আশ্রয়স্থলসহ বেশ কয়েকটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে জর্ডানের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বিবৃতিতে আইআরজিসি দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বন্ধ করার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে পবিত্র ভূখণ্ডকে ইসলামি দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না দেওয়ার কথাও বলা হয়। সংস্থাটি জর্ডানের জনগণকে মার্কিন বাহিনীকে বিতাড়িত করা এবং সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানায়।
কুয়েতের জনগণের উদ্দেশেও পৃথক বার্তা দিয়েছে আইআরজিসি। এতে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি জানিয়ে কুয়েতিদের এসব স্থাপনায় আঘাত হানার এবং নিজেদের ভূখণ্ডকে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটি থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দ্বিতীয়বারের মতো জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটির এফ-১৮ যুদ্ধবিমান সংরক্ষণ এলাকা এবং বড় সরঞ্জাম হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘাঁটির কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, নৌ সহায়তা ব্যবস্থাপনা ইউনিট, গুদাম এবং জ্বালানি ট্যাঙ্কে আঘাত হানা হয়েছে, এতে স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। দেশজুড়ে ড্রোন প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ এলাকায় পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান রসদ ও সহায়তা কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাসর-২’ অভিযানের চতুর্থ ধাপে ওই স্থাপনায় আঘাত হানা হলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।






