মধ্যপ্রাচ্যে একযোগে চার মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মধ্যপ্রাচ্যে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালিয়েছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ঘাঁটিগুলোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, দেশটির সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস অঞ্চলজুড়ে চিহ্নিত শত্রু ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত হামলা চালায়। একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টা নজরদারির মাধ্যমে লক্ষ্য নির্ধারণের পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়, যা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে বিবেচিত।
আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে হামলায় জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরে যায়। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ইরানের উপকূলীয় সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রথম ধাপে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজকে থামানোর একটি নৌ-অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম হামলা চালায়। ওই জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখা, অবৈধ চলাচল এবং নৌপথে ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের মহাকাশ বাহিনী হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, পি-৮ বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং একটি মার্কিন ড্রোনের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত রাডার ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কুয়েতেও বিমান হামলার সাইরেন শোনা গেছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে শত্রুপক্ষের ছোড়া লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পরবর্তী বিস্তারিত পরে জানানো হবে।





