‘বন্দর রক্ষায় প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি’—এনসিটি হস্তান্তর নিয়ে শ্রমিকদের হুঁশিয়ারি

জোবায়ের হোসেন, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার সৌদি বাংলা রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। তাদের দাবি, এনসিটি থেকে প্রতি বছর সরকারের প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় হয়। এর মধ্যেই এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, দেশের স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিবেচনা না করে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে জাতীয় সংকটের সময় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাদের দাবি, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হলে দেশীয় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
তারা আরও দাবি করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং এনসিটি থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তির কারণে এনসিটিতে বিপজ্জনক পণ্য খালাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা করলেও চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং বন্দরের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তাদের দাবি, এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ওপর বিদেশি প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় তারা চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় জনবল ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চার দফা দাবি:
সংবাদ সম্মেলন থেকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
১. চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে চুক্তি-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
২. পূর্বের আন্দোলনের ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দরের নেতৃত্বসহ ১৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে এখন পর্যন্ত বন্দরে কর্মরত যেসব কর্মকর্তা এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে হবে।
৪. পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন জনবল নিয়োগ বন্ধ রেখে বন্দরের চলমান অপারেশনাল কার্যক্রম স্থবির করার পরিবর্তে বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ দিয়ে অপারেশনাল কার্যক্রম গতিশীল করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক বন্দরে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
বক্তারা জানান, এসব দাবি আগামী দুই দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী ২২ ও ২৭ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।






