দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে শ্যামনগর। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে শতাধিক ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল নানা প্রতিবাদী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড।
কর্মসূচির একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা খড় ও কাপড় দিয়ে তৈরি সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের প্রতীকী অবয়ব নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে মিছিলটি বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদ সড়কসহ বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত এমপির প্রতীকী অবয়বে আগুন ধরিয়ে দেন।
সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, "নাটক সাজিয়ে ওই তরুণীর ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। নির্যাতনের মাত্রা সহ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি এই নির্মম পথ বেছে নিয়েছেন। একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার এ ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আমরা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই না।"
ঘটনার পেছনে ভিন্ন কারণ থাকতে পারে উল্লেখ করে শ্যামনগরের ভুরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, "গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই পরবর্তীকালে বিয়ের নাটক সাজানো হয়। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। তাঁকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কি না, তা বের করতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।"
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আফসোস প্রকাশ করে বলেন, "আমি নির্বাচনের সময় তাঁর ব্যক্তিগত লোক হিসেবে কাজ করেছি। তবে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধের কারণে তাঁকে মন থেকে ঘৃণা করি। এই মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনাকারী ও অন্য কোনো প্রভাবশালী জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা দরকার।"
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যা বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ ইতিমধ্যেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে।
এর আগে মরিয়মের সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তিনি মরিয়মকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করলে, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতি ভঙ্গের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।





