চীনের সঙ্গে সংঘাতের প্রস্তুতি: ১৯টি অ্যাটাক সাবমেরিনকে মিসাইল সাবমেরিনে রূপান্তর করছে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন: চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য ধরে রাখতে নিজেদের সাবমেরিন বহরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, পরিকল্পনাধীন ১৯টি পরমাণু চালিত ভার্জিনিয়া-শ্রেণির অ্যাটাক সাবমেরিনকে গাইডেড-মিসাইল সাবমেরিনে (SSGN) রূপান্তর করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।
নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় সাবমেরিনগুলোতে প্রায় ৮৪ ফুট দীর্ঘ ‘ভার্জিনিয়া পেলোড মডিউল’ (VPM) যুক্ত করা হবে। এর ফলে প্রতিটি সাবমেরিনে অতিরিক্ত ২৮টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সেল যুক্ত হয়ে মোট সেল সংখ্যা দাঁড়াবে ৪০টিতে। এসব সেলে টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক হাইপারসনিক প্রযুক্তিভিত্তিক অস্ত্র বহন করা সম্ভব হবে। গোপনীয়তার সঙ্গে চলাচলের সক্ষমতার পাশাপাশি এই বর্ধিত শক্তি চীনের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে কাছাকাছি অবস্থান থেকে দ্রুত হামলায় সহায় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক সীমানার প্রথম দ্বীপশৃঙ্খলের (জাপান, তাইওয়ান ও ফিলিপাইন সংলগ্ন অঞ্চল) ভেতরে চীন যেখানে ব্যাপক সামরিক প্রভাব বজায় রেখেছে, সেখানে সাবমেরিনই একমাত্র সামরিক মাধ্যম যা নিরাপদে অবস্থান নিয়ে অবস্থান বজায় রাখতে পারে।
অন্যদিকে, দুই দশক ধরে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে কাজ করা চারটি ‘ওহাইও-শ্রেণির’ গাইডেড-মিসাইল সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে অবসরে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে ইউএসএস জর্জিয়াকে ইতোমধ্যে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওহাইও-শ্রেণির সাবমেরিন সর্বোচ্চ ১৫৪টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ছিল। ওয়াশিংটনভিত্তিক 'সাবমেরিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেস কাউন্সিল'-এর হিসাব অনুযায়ী, এসব সাবমেরিন অবসরে গেলে সাময়িকভাবে পানির নিচ থেকে মার্কিন বাহিনীর হামলা চালানোর সক্ষমতা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।
পরিকল্পিত নতুন ভার্জিনিয়া-শ্রেণির প্রথম সাবমেরিনটি ২০২৯ সালের আগে বহরে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই এবং সম্পূর্ণ ১৯টি সাবমেরিন ২০৩৮ সালের মধ্যে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন একটি ভার্জিনিয়া-শ্রেণির সাবমেরিন ওহাইও-শ্রেণির মাত্র ২৬ শতাংশের সমপরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের (IISS) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সাবমেরিন ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ গতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দ্রুততর হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীন ১০টি সাবমেরিন নির্মাণ করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে সাতটি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং অঞ্চলটিতে প্রতিরোধ জোরদার করতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নতুন সাবমেরিন রূপান্তর নীতি গ্রহণ করেছে।





