চট্টগ্রামে মামলার বাদীদের টার্গেট করে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

জোবায়ের হোসেন,চট্টগ্রাম :
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডি ও ডিবির কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎকারী একটি চক্রের মূলহোতা মো. মোজাম্মেল হক কবিরকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।
মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হক কবির ওই নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকার মৃত বেশারত উল্ল্যাহর ছেলে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন।
পিবিআই জানায়, চক্রের সদস্যরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালত থেকে মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। পরে নিজেদের পিবিআই, সিআইডি বা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলায় বাদীর পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দিত। বিশ্বাস অর্জনের পর গাড়ি ভাড়া ও তদন্তের খরচের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা নিত তারা।
পুলিশ আরও জানায়, প্রতারকরা শুধু বাদীদের মোবাইল নম্বরই সংগ্রহ করত না, সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগের বিবরণও জেনে নিত। ফলে প্রকৃত তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিজেদের পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারত। অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করায় তাদের শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।
সর্বশেষ পিবিআইয়ের এসআই মো. আবু সুফিয়ানের তদন্তাধীন একটি মামলার বাদীর কাছ থেকে একই কায়দায় টাকা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রতারকদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় মামলা করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলা দায়েরের পর পিবিআই তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মোজাম্মেলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, অন্যের পরিচয় ধারণ করে প্রতারণা ও সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।





