খুলনায় স্বর্ণের বিস্কুট দেখিয়ে প্রতারণা, দুই সদস্য গ্রেপ্তার

খুলনা জেলা প্রতিনিধি: ফাহিম ইসলাম
খুলনা মহানগরীর গল্লামারী মোড় এলাকায় স্বর্ণের সদৃশ্য বিস্কুট দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। এ সময় প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মোঃ ফয়জুল্লা হোসেন রাব্বি (২৮) ও মোঃ ফারুক বিল্লা (৩৫)।
পুলিশ জানায়, গত ৮ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বটিয়াঘাটা থানাধীন চক্রাখালীর মোড় থেকে বিচিত্রা রানী পান্ডে (৫২) একটি ইজিবাইকে করে খুলনার গল্লামারী মোড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ইজিবাইকে ওঠেন।
গল্লামারী মোড়ে পৌঁছানোর পর তাদের মধ্যে একজন পার্স ব্যাগ থেকে একটি চিঠি ও স্বর্ণের সদৃশ্য একটি বিস্কুট বের করে ওই নারীকে দেখান। বিভিন্ন কৌশলে তার বিশ্বাস অর্জনের পর স্বর্ণের সদৃশ্য বিস্কুটটি নেওয়ার জন্য তাকে প্রলুব্ধ করা হয়। একপর্যায়ে ওই নারী সরল বিশ্বাসে বিস্কুটটি নেওয়ার জন্য সম্মত হলে প্রতারকরা কৌশলে তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে সটকে পড়েন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও একটি স্বর্ণের চুড়ি। এসবের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
ঘটনার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে ফয়জুল্লা হোসেন রাব্বির সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। পরে ৮ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন ময়লাপোতা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাব্বির দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে লবণচরা থানাধীন মুজহিদপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত একটি বাসা থেকে তোশকের নিচে লুকানো অবস্থায় ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।
পরে রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সহযোগী ফারুক বিল্লাকে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হরিণটানা থানাধীন উত্তরপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ফয়জুল্লা হোসেন রাব্বি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধারকৃত আলামত, তথ্যপ্রযুক্তিগত তথ্য ও তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দুজনের সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং ঘটনায় তাদের ভূমিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার কৌশল উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।






