কট্টর ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে সেনাপ্রধানের কঠোর অবস্থান, পাকিস্তানে কমেছে ব্লাসফেমি মামলা

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে সেনা নেতৃত্বের কঠোর অবস্থানের মুখে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ধর্ম অবমাননা (ব্লাসফেমি) সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানের ফলে চলতি বছর দেশটিতে নিবন্ধিত ব্লাসফেমি মামলার সংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে বলে সরকার ও সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি করাচিতে এক খ্রিস্টান পরিবারের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠলে শত শত মানুষ তাদের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। অতীতে এ ধরনের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর উসকানিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার নজির থাকলেও, এবার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে সক্ষম হয়।
ঘটনাটির অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা সাংহার আলী মালিক জানান, উপস্থিত উত্তেজিত জনতাকে কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বোঝানো হয় যে কোনো ধর্মই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার দেয় না। পুলিশের সুনির্দিষ্ট তদন্তের আশ্বাসে পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা শান্ত হয়ে স্থান ত্যাগ করে। ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় অতীতে সক্রিয় থাকা প্রভাবশালী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।
কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ দমন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন লাভ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে পাকিস্তানকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সেনাপ্রধানের সম্পর্ক এবং প্রতিবেশী আফগান তালেবানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের অবনতিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
সেনাপ্রধানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আসিম মুনিরের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট— কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব টিকিয়ে রেখে একটি প্রগতিশীল ও উন্নত পাকিস্তান গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ফলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থেই এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।





