উত্তর আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার করতে চায় চেক রিপাবলিক

বেশ নাটকীয়ভাবেই এবারের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে চেক রিপাবলিক। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের উয়েফা প্লে-অফে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড এবং ডেনমার্কের বিপক্ষে টানা দুটি ম্যাচে পেনাল্টি-শুটআউটে জয় তুলে নেয় তারা। আর তাতেই দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষা অবসান ঘটিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন হলো দলটির।
এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে নিজেদের শক্তির জানান দিতে মুখিয়ে রয়েছে চেকরা। আসন্ন টুর্নামেন্টে তারা সহ-আয়োজক মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে গ্রুপ ‘এ’-তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
প্রধান কোচ: মিরোস্লাভ কোবেক
চেক রিপাবলিকের এই রোমাঞ্চকর প্লে-অফ জয়গুলো ছিল মিরোস্লাভ কোবেকের অধীনে দলটির প্রথম ম্যাচ। ৭৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি মূলত সাবেক কোচ ইভান হাসেকের স্থলাভিষিক্ত হন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পুঁচকে ফারো আইল্যান্ডসের কাছে দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম হতাশাজনক পরাজয়ের পর হাসেককে বরখাস্ত করেছিল চেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
কোবেক তার খেলোয়াড়ি জীবনে একজন দক্ষ গোলরক্ষক ছিলেন এবং স্পার্টা প্রাগের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে তিনি কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। ঘরোয়া ফুটবলে ভিক্টোরিয়া প্লাজেনের সঙ্গে তিন দফায় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও প্রধান কোচ ছিলেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি
১১ জুন: দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক রিপাবলিক — এস্তাদিও গুয়াদালাজারা
১৮ জুন: চেক রিপাবলিক বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা — আটলান্টা স্টেডিয়াম
২৪ জুন: চেক রিপাবলিক বনাম মেক্সিকো — মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম
বিশ্বকাপের ইতিহাস ও পরিসংখ্যান
কনফেডারেশন: উয়েফা
সেরা সাফল্য: রানার্স-আপ (১৯৩৪, ১৯৬২)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: জার্মানি ২০০৬ (গ্রুপ পর্ব)
প্রথম বিশ্বকাপ: ইতালি ১৯৩৪ (রানার্স-আপ)
বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন: ১০ বার (১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৮২, ১৯৯০, ২০০৬, ২০২৬)
সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ ৩৩, জয় ১২, ড্র ৫, হার ১৬, গোল করেছে ৪৭, গোল খেয়েছে ৪৯।
ফিফা র্যাংকিং: ৪১তম
প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি
তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল ১৯৩৪ সালে ইতালির মাটিতে। ১৬টি দলের সেই টুর্নামেন্টটি সরাসরি নকআউট ফরম্যাটে খেলা হয়েছিল। উদ্বোধনী রাউন্ডে রুমানিয়া এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে পিছিয়ে থেকেও হারিয়ে দেয় তারা। এরপর ওল্ডরিখ নেজেডলির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে জার্মানির বিপক্ষে শেষ চারের ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠে চেকোস্লোভাকিয়া। ইতালির বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আন্তোনিন পুচ গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেও রাইমুন্ডো ওরসি আজুরিদের সমতায় ফেরান। পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ে অ্যাঞ্জেলো শিয়াভিও স্বাগতিক ইতালির হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন।
শেষ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা
বিশ্বমঞ্চে দলটির সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল ২০০৬ সালে জার্মানিতে। তার এক দশক আগেই স্লোভাকিয়ার সঙ্গে বিভক্তির পর দেশটি 'চেক প্রজাতন্ত্র' বা চেক রিপাবলিক নামে আত্মপ্রকাশ করে। সেই আসরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে টমাস রোসিচকির জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় দিয়ে স্বপ্নের মতো শুরু করেছিল চেকরা। তবে পরের ম্যাচগুলোতে ঘানা এবং ইতালির কাছে টানা পরাজয়ের কারণে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
রেকর্ড ও ব্যক্তিগত অর্জন
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা: ওল্ডরিখ নেজেডলি ১৯৩৪ সালের টুর্নামেন্টে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। স্পার্টা প্রাগের এই কিংবদন্তি ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সেও দেশের হয়ে ২টি গোল করেন। চেকদের হয়ে বিশ্বকাপে তার মোট গোল ৭টি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তালিকায় ৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন টমাস স্কুহরাভি।
সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়: লাদিস্লাভ নোভাক চেকোস্লোভাকিয়ার হয়ে তিনটি বিশ্বকাপে মোট ১২টি ম্যাচ খেলেছেন। এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ১৯৬২ সালে চিলির বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়া দলটির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেন।
সবচেয়ে বড় জয়: ১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইতিহাস গড়েছিল চেকোস্লোভাকিয়া। হেলসিংবার্গে আলবিসেলেস্তেদের ৬-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করার ম্যাচে জেদনেক জিকান ও ভাক্লাভ হোভোরকা উভয়েই দুটি করে গোল করেছিলেন।





