‘আর্জেন্টিনা সবসময় চ্যাম্পিয়ন হতে চায়’

কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসেই ফুটবল ক্যারিয়ারে নাটকীয় পরিবর্তন আসতে পারে—এর বড় উদাহরণ জুলিয়ান আলভারেজ। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২-এ শুরুটা হয়েছিল বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। তবে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রমাণ করে দলের অপরিহার্য সদস্যে পরিণত হয়েছেন তিনি।
প্রথম দিকে লাউতারো মার্তিনেজ-এর পেছনে ব্যাকআপ হিসেবেই থাকতে হয়েছিল আলভারেজকে। সৌদি আরবের বিপক্ষে হার এবং মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে সুযোগ পান। পরে পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রথম একাদশে জায়গা পেয়ে গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি—ফাইনাল পর্যন্ত নিয়মিত একাদশে ছিলেন তিনি।
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল-এর এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ-এর হয়ে খেলছেন। ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে জিতেছেন একাধিক শিরোপা। কোপা লিবার্তাদোরেস, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও কোপা আমেরিকা—সবখানেই ট্রফির স্বাদ পেয়েছেন তিনি।
২০২২ বিশ্বকাপে চার গোল করা এই স্ট্রাইকার আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আমাদের মধ্যে সবসময় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তাড়না কাজ করে। এবারও আমরা ফাইনালে পৌঁছাতে চাই। কাজটা সহজ হবে না, তবে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে ধাপে ধাপে এগোব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে যাওয়া দারুণ অনুভূতি। আমরা শিরোপা ধরে রাখতে চাই এবং দেশের মানুষকে আবারও আনন্দ দিতে চাই।’
ইতিহাস বলছে, টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি খুব কম দলের আছে। ইতালি এবং ব্রাজিলই কেবল এ কীর্তি গড়তে পেরেছে। সেই তালিকায় নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা।
এই প্রসঙ্গে আলভারেজ বলেন, ‘যদি আমরা টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে পারি, সেটা ইতিহাস হয়ে থাকবে। গত কয়েক বছর আমাদের জন্য স্বর্ণযুগের মতো গেছে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।’
দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি-কে নিয়েও আশাবাদী আলভারেজ। তিনি বলেন, ‘বয়সের কারণে এটি তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার। তিনি শুধু আমাদের জন্য নয়, সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ একজন। তার প্রভাব অনস্বীকার্য।’





